সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তার ও মসজিদ কমিটি নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষে আহত-১
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তার ও মসজিদ কমিটি নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষে মোঃ জলিল নামে এক বিএনপি নেতা আহত হয়েছেন।
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল দুপুরে পিরোজপুর ইউপির আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ জলিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় অভিযোগের বরাত দিয়ে মোঃ জলিল বলেন,
আমার সৎ ভাই ১। আব্দুর রউফ (৪৯), পিতা-মৃত হযরত আলী, ২। ছেলে রাফি ইসলাম (২৩), পিতা-আব্দুর রউফ, ৩। স্ত্রী ফেরদৌসী রমিজা (৪৮) স্বামী-আব্দুর রউফ, ৪। আবু আব্বাস (৪৫), পিতা-আব্দুল বারেক, ৫। ফিরোজ (৪৮), পিতা- মৃত ইমান উদ্দিন, ৬। আবু সিদ্দিক (৫২), পিতা- সালামত, ৭। বাবুল (৪৯), পিতা-মোচন আলী, সর্ব সাং-আষাড়িয়ারচর, ওয়ার্ড নং-০৬, ইউপি-পিরোজপুর, থানা-সোনারগাঁ, জেলা-নারায়ণগঞ্জসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন বিবাদীরা আষাড়িয়ার চর জামে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে উপরোক্ত ১নং বিবাদীর সাথে আমার বিরোধ চলিতেছে। তাছাড়াও উক্ত বিবাদী অবৈধ ভাবে চুনা ফ্যক্টরীতে এবং বিভিন্ন দোকানে গ্যাস সংযোগ দিয়ে টাকা উত্তোলন করে আসছে। আমি বিবাদীর অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে টাকা উত্তোলনের কাজে বাধা দেওয়ায় তাহার সাথে আমার বিরোধ দেখা দেয়। উক্ত বিরোধের কারনে বিবাদীগণ আমাকে সহ আমার পরিবারের লোকজনদের খুন জখম করার হুমকি প্রদান করিতে থাকে। শুক্রবার ২৪ এপ্রিল দুপুর সোয়া ১টার দিকে আষাড়িয়ারচর জামে মসজিদ কমিটির গঠন নিয়ে উপরোক্ত ১নং বিবাদীর সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। পরে আমি নামাজ শেষ করে দুপুর অনুমান ২টার দিকে আষাড়িয়ারচর আমার বাসায় প্রবেশ করিতে গেলে উপরোক্ত ১নং বিবাদী আমাকে বাসায় প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করে এবং বলে যে, তুই আমার চুনা ব্যবসা এবং মসজিদ কমিটির কাজে বাধা প্রদান করেছিস। তোকে জীবনের মত শেষ করে দিব। এই কথা বলে উপরোক্ত ১নং বিবাদী চিৎকার করিয়া অন্যান্য বিবাদীদের ডাক দিলে বিবাদীগন ধারালো রামদা, লোহার রড, হকিষ্টিক, বাশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনী ভাবে আমার রুমে প্রবেশ করিয়া আমাকে এলোপাথারী ভাবে মারপিট শুরু করে। ১নং বিবাদী আব্দুর রউফ এর হুকুমে ২নং বিবাদী রাফির হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দিলে আমার বাম হাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। ৪নং বিবাদী আবু আক্কাসের হাতে থাকা লোহার রড দিযে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মাথায় আঘাত করিয়া রক্তাক্ত জখম করে। ৫নং ও ৬নং বিবাদী লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আমার হাতে পায়ে আঘাত করে নিলাফুলা জখম করে। ৩নং বিবাদী ফেরদৌসী রমিজা আমার বাসায় প্রবেশ করে ওয়ারড্রপে থাকা নগদ ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা ও ০১টি স্যামসং এস-২৫ মোবাইল সেট, যাহার মূল্য ৭৫,০০০/-(পচাত্তর হাজার) টাকা নিয়ে যায়। করে। বিবাদী বাবুল, আবু আক্কাস, সিদ্দিক, ফিরোজ আমার প্রাইভেটকার ভাংচুর করে অনুমান ১,৫০,০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকার ক্ষতি সাধন করে। আমার ডাক চিৎকারে আমার ছোট ভাই আব্দুল লতিফ এগিয়ে আসলে বিবাদী পরবর্তীতে আমাকে খুন জখম করবে মর্মে হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে আমার ভাই আমাকে চিকিৎসার জন্য সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে আঃ রউফকে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মহিবুল্লাহ বলেন, অভিযোগ নেয়া হয়েছে, এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...