বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্জেন্টিনা ভক্তদের জন্য ফ্রি প্যালেস্টাইন ক্যাম্পেইন সঠিক তথ্য না জানায় মানুষ অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি জমায়: না’গঞ্জ ডিসি সাংবাদিক সোনালীর চিকিৎসা সহায়তায়  মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন সদর ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান:  পরিচ্ছন্নতা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কঠোর হুঁশিয়ারি ১৬ জুন, নারায়নগঞ্জ  চাষাঢ়া বোমা ট্র্যাজেডির  ২৬ বছর ৬৪ জেলা ও ৭৪টি প্রত্যন্ত উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে শুরু হচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’ গণমাধ্যমকে তোষামোদির সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে পিআইবির আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী আমলাপাড়ায় নেমুর মৃত্যুতে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত ​না:গঞ্জে  ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী’র প্রকল্প উদ্বোধন ও সরকারি অফিস  পরিদর্শন

বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৮তম বার্ষিক সভা ২০২৫

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: / ৪১১ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৮তম বার্ষিক সভা ১২ই পৌষ ১৪৩২/২৭শে ডিসেম্বর ২০২৫ শনিবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

শিল্পী অণিমা রায়-এর নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুরবিহার’-এর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বাংলা একাডেমির পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ছিল পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ। গত সাধারণ সভার পর থেকে এক বছরে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রয়াত গুণী ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব পাঠ ও তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এবং একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেট অবহিত করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
একাডেমির সদস্যবৃন্দ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন। মহাপরিচালক সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং উত্থাপিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় ২৮শে ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত ৪৭তম বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী সারাদেশ থেকে আগত একাডেমির ফেলো, জীবনসদস্য ও সদস্যদের সম্মতিক্রমে অনুমোদন ঘোষণা করা হয়।
সভায় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলা একাডেমি সাম্মানিক ফেলোশিপ ২০২৫ এবং বাংলা একাডেমি পরিচালিত ৮টি পুরস্কার- সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার ২০২৫, মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কার ২০২৫, মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার ২০২৫, সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫, অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার ২০২৫, আবু রুশ্দ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫, হালীমা-শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কার ২০২৫ এবং রাবেয়া খাতুন কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করা হয়।
বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ ২০২৫’প্রাপ্তরা হচ্ছেন : ১. জনাব ফিলিপ গাইন (সাংবাদিকতা), ২. জনাব মাহবুব উল্লাহ (অর্থনীতি), ৩. জনাব সমর মজুমদার (শিল্পকলা), ৪. জনাব পারভীন হাসান (ইতিহাস) ৫. জনাব মেরিনা তাবাসসুম (শিল্পকলা), ৬. জনাব মতেন্দ্র মানখিন (সাহিত্য) এবং ৭. জনাব বিজন কুমার শীল (বিজ্ঞান)।
পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন-
সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এ অধ্যাপক মনসুর মুসা, মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এ খসরু চৌধুরী, মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার ২০২৫-এ সানাউল হক খান, সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এ হাফিজ রশিদ খান, অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার ২০২৫-এ তারিক আনাম খান, আবু রুশ্দ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এ শিবব্রত বর্মন, হালীমা-শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কার ২০২৫-এ সফিক ইসলাম, রাবেয়া খাতুন কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এ সুব্রত বড়ুয়া ও আনিসুর রহমান ভূষিত হয়েছেন।
পুরস্কার ও ফেলোশিপপ্রাপ্ত গুণীজণদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য, সম্মাননাপত্র, সম্মাননা-স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ঐতিহাসিক এক অভিপ্রায়ে বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা। সাত দশকের পথ চলায় একাডেমিকে ঘিরে মানুষের বিপুল জনচাহিদায় বুঝতে পারা যায়- এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনাদের ভালোবাসার যেমন কমতি নেই তেমনি প্রত্যাশারও অন্ত নেই। আমরা সবসময় দেশের বিদ্যমান বাস্তবতা মাথায় রেখে আমাদের সীমিত সাধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে চলেছি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গবেষণা প্রকল্প ও বৃত্তির মাধ্যমে সারাদেশের সর্বসাম্প্রতিক গবেষণা-মেধাকে আমরা মূল্যায়নের প্রয়াস পেয়েছি। একাডেমিতে লেখকদের জন্য স্বতন্ত্র কর্নার প্রতিষ্ঠা, গ্রন্থাগারের ডিজিটাইজেশনসহ অবকাঠামো ও প্রকাশনাগত ক্ষেত্রে বিপুল গুণগত পরিবর্তন সাধন করা হয়েছে। আশা করা যায়, আমাদের সবার প্রচেষ্টায় বাংলা একাডেমি সত্যিকার অর্থেই জাতির মননের প্রতীক-প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, বাংলা একাডেমি এ বছর ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠার সাত দশক পূর্ণ করেছে। সত্তর বছরের পথপরিক্রমায় একাডেমি অসাধারণ সব গবেষণকর্ম সম্পন্ন করেছে, সেই সঙ্গে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চাঞ্চল্যকে ধারণ করে ভবিষ্যতের স্বদেশকল্পনা নির্মাণ করেছে। একাডেমিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আশার কোনো শেষ নেই কিন্তু আমাদের সামর্থ্যরে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আমরা আশা করি, সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা বাংলা একাডেমিকে অধিকতর জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর