সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া পরিদর্শনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু সনদ নয়, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হতে হবে : ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা আমরা চাই যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসুক:শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনোত্তর তরুণদের ভাবনা শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ শীর্ষক দেশব্যাপী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,একযোগে নারায়গঞ্জেও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত প্রচণ্ড গরমে পথচারীদের মাঝে সুপেয় পানি ও স্যালাইন বিতরণ করল আম্বিয়া বেগম সাহিত্য পরিষদ নবনিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে মোক্তার ভুঁইয়ার  অভিনন্দন

মুসুল্লিদের ৬০ বছরের ভোগান্তির অবসান ঘটাচ্ছেন ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ / ৬৯৯ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫

শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মুসুল্লিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে আধুনিক ওয়াশ ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রায় ছয় দশক আগে, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শহরের প্রাণকেন্দ্রের এই মসজিদটিতে এতদিন পর্যন্ত মুসুল্লিদের জন্য ছিল না স্বাস্থ্যসম্মত কোনো অজুখানা, প্রস্রাবখানা, এমনকি ভালো একটি পায়খানাও। জরুরি প্রয়োজনে নামাজে আগতরা জেলা আইনজীবী সমিতির পায়খানা ব্যবহার করতেন।

পাশেই আদালত চত্বর ও একাধিক বিপণিবিতান থাকায় যোহরের নামাজের সময় ওজু বা বাথরুম ব্যবহারের জন্য মুসুল্লিদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো।
স্থানীয়রা জানান, পুরাতন কোর্ট এলাকা হওয়ায় এখানে বিচারক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষও দূর-দূরান্ত থেকে নামাজ পড়তে আসেন।

দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ থাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন থমকে ছিল।
তবে এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বিষয়টি জেনে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেন। তিনি ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে আজ শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) আধুনিক ওয়াশ ব্লকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা হাসানুজ্জামান জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “ডিসি সাহেবের এই উদ্যোগের পরে মুসুল্লিদের দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা সমাধান হতে যাচ্ছে।”

মসজিদ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, জেলা প্রশাসক মসজিদের মুসুল্লিদের ভোগান্তির কথা জানা মাত্রই আন্তরিকতা নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী বলেন, “এখানে অনেক সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নামাজ পড়তেন, কিন্তু তারা নিজেরা মসজিদের অজুখানা বা বাথরুম ব্যবহার করতেন না বলে সমস্যাটা হয়তো তাদের চোখে পড়েনি। এই জেলা প্রশাসক একেবারেই ভিন্নধর্মী মানুষ—উনি সত্যিই আলাদা।”

মসজিদ কমিটির সদস্য হাজী কামাল উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি মুসুল্লি এখানে নামাজ আদায় করেন, কিন্তু তাদের জন্য ছিল মাত্র একটি পুরনো বাথরুম। জেলা প্রশাসকের বরাদ্দকৃত অর্থে আমরা একটি আধুনিক ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করছি, যেখানে পর্যাপ্ত অজুখানা ও বাথরুম থাকবে।”

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগের প্রসঙ্গে হাজী কামাল আরও বলেন, “এই ডিসি সাহেব সৎ, দেশপ্রেমিক এবং নির্দলীয় সরকারি কর্মকর্তা। আমরা যখন প্রস্তাব দিই, তিনি নিজেই নতুন মসজিদ কমিটি গঠন করে কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। উনার ইচ্ছে—আল্লাহর ঘর যেন সবসময় উন্নত থাকে।”

এর আগে সমবেত মুসুল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্যকালে ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “জেলা প্রশাসক হিসেবে এই জেলায় যোগ দেওয়ার পরে এর আগে এই মসজিদে এসেছিলাম। আমাকে এই মসজিদের সার্বিক বিষয় জানানো হয়েছিল।
আমাদের সাধ আছে, অনেক কিছু করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য সীমিত। আমরা ইতিমধ্যে ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ এনেছি আমাদের মুসুল্লি ভাইদের জন্য, যারা ওজু করতে আসেন, নামাজ পড়তে আসেন—তাদের জন্য সুন্দর একটা ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে।
আমি আগামীতেও এখানে কত বরাদ্দ দেওয়া যায় সেটা চেষ্টা করব। আগামী মাসেই আরেকটা বরাদ্দের জন্য আবেদন করব,”—যোগ করেন ডিসি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন মসজিদ কমিটি না থাকায় স্থানীয় গণ্যমান্যদের অনুরোধে পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের মাত্র সাত দিনের মাথায় মসজিদ উন্নয়নে কাজ শুরু করেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বর্তমানে দুই তলা বিশিষ্ট এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় এক হাজার মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের পরিচালনায় রয়েছেন একজন খতিব, দুজন মুয়াজ্জিন, দুজন খাদেম এবং একজন ক্লিনার

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর