শ্রমিকনেতা কমরেড আবুল বাসারের পঞ্চদশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওয়ার্কার্স পার্টির স্মরণসভা অনুষ্ঠিত
ন্যায্য মজুরির আন্দোলনকে শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির আন্দোলনে সম্পর্কীত করেছিলেন শ্রমিকনেতা কমরেড আবুল বাসার। স্মরণ সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ।
১০ নভেম্বর ( সোমবার ) বিকেলে ঢাকা তোপখানায় শহীদ মিলনায়তনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রমিকনেতা কমরেড আবুল বাসারের পঞ্চদশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমদ বকুল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পলিটব্যুরোর সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড কামরূল আহসান, বীরমুক্তিযোদ্ধা শ্রমিকনেতা আবুল হোসাইন প্রমূখ। সভায় কমরেড নূর আহমদ বকুল বলেন, কমরেড আবুল বাসার ছিলেন এদেশের কিংবদন্ডী শ্রমিক নেতা যিনি পাকিস্তান আমলে তার শ্রমিক আন্দোলন শুরু করে এদেশের মেহনতি মানুষের মুক্তির আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করেছিলেন। তিনি একটা স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে তিনি একটা ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিলেন।
সভায় অন্যান্য বক্তাগণ কমরেড আবুল বাসারের রাজনৈতিক অবদানের কথাও গুরুত্ব দিয়ে স্মরণ করেন। বক্তাগণ বলেন, কমরেড আবুল বাসার এদেশের পাট, সূতা ও বস্ত্রকল আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। পাটকলের সতের দফা আন্দোলন,স্কপের পাঁচ দফা চুক্তি এবং এদেশের রেল,বন্দর,বিদ্যুৎসহ প্রায় সব রাষ্ট্রায়ত্ব কলকারখানার আন্দোলনের তিনি ছিলেন পুরোধা।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি,ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার এবং বন্ধ কলকারখানা খোলার আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য আবুল বাসারের শিক্ষাকে কাজে লাগানো যায়।
এই কঠিন সময়ে নানা দলে উপদলে বিভক্ত শ্রমিক আন্দোলনকে একটা ঐক্যবদ্ধ ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য কমরেড আবুল বাসারের সংগ্রামকে পাথেয় করা যায়। কারণ আবুল বাসার ছিলেন ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনে বিশ্বাসী এবং তিনি মনে করতেন, ঐক্যবদ্ধ না থাকলে শ্রমিকের মজুরি ও তার মুক্তির আন্দোলন সফলতা অর্জন করতে পারে না।
বক্তাগণ পরিশেষে তাঁর স্মৃতি ও সংগ্রামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...