শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতাকে হুমকি ও অপপ্রচার: ফতুল্লায় এলাকাবাসী ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের ক্ষোভ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় নারায়ণগঞ্জ সদরে কর্মশালা ৩৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৬৫ শিক্ষার্থী-শিক্ষক অংশগ্রহণ শারদীয় দুর্গোৎসবে নারী ও শিশুসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত’র দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর মহিলা পরিষদের স্মারকলিপি প্রদান দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জে পুলিশ মেধাবৃত্তি-২০২৪ ও ২০২৫ এর কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা শারদীয় দুর্গোৎসবে “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখুন” -শীর্ষক মহিলা পরিষদ’র মানববন্ধন নারীদের নানা প্রতিবন্ধকতা’র বিষয়গুলো লেখনির মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন -কবি ও কথা সাহিত্যিক সুমি ইসলাম ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেলেন নারায়ণগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল হক নারায়ণগঞ্জে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তায় ২২ ট্রাফিক ভলান্টিয়ারের কার্যক্রম উদ্বোধন

নারীদের নানা প্রতিবন্ধকতা’র বিষয়গুলো লেখনির মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন -কবি ও কথা সাহিত্যিক সুমি ইসলাম

মো: শফিকুল ইসলাম আরজু : / ১৪৩ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

নারীদের নানা প্রতিবন্ধকতা’র বিষয়গুলো লেখনির মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন -কবি ও কথা সাহিত্যিক সুমি ইসলাম

মো: শফিকুল ইসলাম আরজু –

লালনের দেশ কুষ্টিয়া, যাকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানীও বলা হয়। মীর মশাররফ হোসেন, কাঙাল হরিনাথ ও কবি আজিজুর রহমানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই জেলার নাম। শিলাইদহে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি। আবু জাফর, আব্দুল জব্বার ও ফরিদা পারভীনের মতো গুণী মানুষেরাও কুষ্টিয়ার সাহিত্য ও সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন। এমন একটি জায়গায় কবি ও কথা সাহিত্যিক সুমি ইসলাম- এর জন্ম ও বেড়েউঠা। এর সাথে নিজের পরিবারেও পেয়েছেন সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ। সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হওয়ার পেছনে দুটোরই প্রভাব আছে। অবশ্য কুষ্টিয়ার মানুষ বলেই যে লিখতে পারা, এমন নিশ্চয়তা কারো নেই—সংস্কৃতি চর্চা, লালন করন ও ধারন করা নিজের মনের মধ্যে -এর বীজ রোপণ করতে হয়।

কুষ্টিয়া জেলার গুণী এই কবি ও লেখক কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেন। এখন স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস । কুষ্টিয়ায় খুব একটা যাওয়া হয় না, কিন্তু নিজের পিতৃভূমি ও শহরের প্রতি টান আগের মতোই আছে।

পরিবারের লোকজন ছিলেন সংস্কৃতিমনা। কবির বাবা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও কুষ্টিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। কুষ্টিয়ার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর লেখা দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে । তিনি এখন আর বেঁচে নেই। মা গৃহিণী। পরিবারে সদস্যদের মধ্যে তিন ভাই ও এক বোন। বড় ভাই শামীম সাগর নাটকের সঙ্গে যুক্ত। বড়ভাই নিজে নাটক লেখেন, নির্দেশনা দেন, মঞ্চসজ্জা করেন এবং একজন দক্ষ অভিনয় শিল্পী । বলা যায়, নাটকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা সব দিক থেকেই! বড় ভাই এর লেখা ও নির্দেশিত নাটক টেলিভিশনেও প্রচারিত হয়েছে। আরেক ভাইও একসময় অভিনয় করতেন। ছোটবেলা থেকে বাড়িতে এসব দেখেই বড় হয়েছে।

কবি ছোটবেলা থেকেই গল্প বলা, ছড়া, আবৃত্তি ও একক অভিনয়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন। তখন বিভিন্ন লেখকের লেখা আবৃত্তি করলেও যখন থেকে নিজে লেখা শুরু করেছেন এখন নিজের লেখা পাঠকের হাতে তুলে দেন। তবে এতে
দুশ্চিন্তাটা শুধু একটু বদলেছে। আগে ভাবতেন , ভুলে যাব না তো; এখন ভাবি, পাঠকের ভালো লাগবে তো!

 

ছোটবেলা থেকেই প্রচুর বই পড়তেন। উপন্যাস ও কবিতা—দুটোর প্রতিই টান ছিল। সমরেশ মজুমদার, সুচিত্রা ভট্টাচার্য, হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন ও সত্যজিৎ রায়ের লেখা পড়তেন বেশি । তখন পাঠক হিসেবেই বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকতেন। পরে নিজে লিখতে এসে বুঝেছেন, সেই পড়াগুলো আমার ভেতরে কতখানি জায়গা করে নিয়েছে।

কবিতায় মহাদেব সাহা ও নির্মলেন্দু গুণের লেখা খুব ভালো লাগে। তসলিমা নাসরিন, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ও আল মাহমুদের কবিতাও ভালো লাগে। আর জীবনানন্দ দাশের কবিতার নতুন করে প্রেমে পড়া’র মতো ভাবতেন। কিছু কবিতা বয়সের সঙ্গে যেন নতুনভাবে ধরা দেয়। আগে যে পঙ্‌ক্তি পড়ে চলে গেছি, এখন সেখানেই থেমে যাই। কবিতার প্রেমের এই সুবিধাটুকু আছে—যতবার পড়ি, নতুন করে প্রেমে পড়ার সুযোগ থাকে!

কর্মব্যস্তার কারণে মাঝখানে সাংস্কৃতিক চর্চায় দীর্ঘ বিরতি ছিল। তিনি বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেছেন। কাজের সূত্রে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের বিভিন্ন নারীদের সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তাঁদের কথা শুনেছেন, জীবনচিত্র কাছ থেকে দেখেছেন। বাইরে থেকে যাঁকে খুব সাধারণ একজন মানুষ বলে মনে হলেও, তাঁর জীবনেও লুকনো অসাধারণ লড়াই থাকে। সংসার সামলানো, সন্তান বড় করা, নিজের উপার্জনের ব্যবস্থা করা—এসবের আড়ালে কত না-বলা কথা ও কষ্ট জমে থাকে। তাঁদের কষ্টের পাশাপাশি সাহস ও সাফল্যও দেখেছেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো দেখা থেকেই আবারও লেখা লিখিতে ফিরে আসে।

২০১৬ সালে লেখালেখি শুরু করেন তিনি । শুরুটা ফেসবুকে নিজের অনুভূতি ও চারপাশের নানা বিষয় লিখনির মধ্যমে তুলে ধরা । এক বন্ধু লেখাগুলো পড়ে তাকে নিয়মিত লিখতে উৎসাহ দেন। তাঁর সেই উৎসাহটুকু মনে প্রেরনা জোগায় । তবে লেখার চর্চা ধরে রাখা, লেখার জন্য সময় বের করা এবং নিজেকে তৈরি করার শ্রমটা একান্তই তার নিজের। তিনি লিখতে লিখতেই শিখেছেন এবং এখনো শিখে চলছেন।

ছোট ছোট প্রবন্ধ দিয়ে তার লেখা শুরু। তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় সেগুলো পাঠাতেন। বিধবা নারীর প্রতি সমাজের আচরণ, তাঁদের প্রতি পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি, একা সন্তান বড় করা মায়েদের সংকট এবং নারীদের চলার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল তার লেখার বিষয়। একজন নারী একা থাকলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অন্যের এত কৌতূহল কেন? তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে এত অসুবিধা কোথায়—এসব তাকে ভাবাত। কর্মজীবী নারীদের অফিসের সমস্যা, বাসে যাতায়াতে ভোগান্তি ও প্রতিদিনের সংগ্রাম নিয়েও লিখেছেন।

 

তাহার এ লেখা দেখে পরিচিত কয়েকজন সাংবাদিক কবিতা লিখতে বলতেন। তিনি প্রতিউত্তরে বলতেন, কবিতা পড়তে ভালোবাসি, কিন্তু কখনো লিখিনি। লিখতে পারব কি না, সেটাও জানি না। এর পর ২০১৭ সালে কবিতা লেখা শুরু করেন। সেখান থেকেই নিয়মিত সাহিত্যচর্চা। এখন তিনি সে কথা ভাবে হাসি পান—কেননা কবিতা লিখতে পারি না বলে বেশ নিশ্চিন্ত ছিলেন, অথচ পরে কবিতাই তাকে ব্যস্ত করে ফেলল!

এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত বই ছয়টি—তিনটি কবিতার , দুটি উপন্যাস ও একটি ছোটগল্পের বই। কবিতার বই ‘একাকিনীর আত্মযাপন’ ও ‘ট্রেন থেমে আছে হৃদয়পুরে’ এবং ছোটগল্পের বই ‘গল্পগুলো সত্যি’ প্রকাশিত হয়েছে বোধ প্রকাশনী থেকে। কবিতার বই ‘বুনো প্রেম’ প্রকাশিত হয়েছে শব্দশিল্প থেকে।

তার প্রথম উপন্যাস ‘একটুকরো মেঘ’ প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালে। দ্বিতীয় উপন্যাস ‘তিতিল এবং তাহারা’ প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালে। দুটি উপন্যাসই অন্যধারা থেকে প্রকাশিত এবং পাঠকের ভালোবাসা পেয়েছে। পাঠক যখন কোনো চরিত্রের কথা আলাদা করে বলেন, নিজের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পান কিংবা বইটি পড়ে তাঁর অনুভূতি জানান, তখন খুব ভালো লাগে। তার মতে লেখা কারও নিজের কথাও হয়ে উঠেছে—এই অনুভূতিটা বড় প্রাপ্তি।

কবির লেখা গুলো প্রতিটি উপন্যাসই সমকালীন সামাজিক উপন্যাস। সেখানে নারীর সমস্যা, প্রতিবাদ, কষ্ট, এগিয়ে চলা ও সাফল্যের কথা থাকে। তবে একজন নারীর জীবন শুধু তাঁর সংগ্রাম দিয়েই পূর্ণ হয় না। তাঁর প্রেম আছে, কাউকে কাছে পাওয়ার ইচ্ছা আছে, মান-অভিমানও আছে। তার অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, যেখানে নারী, সেখানে প্রেম তো থাকবেই; আর প্রেম থাকলে পুরুষও থাকবেন। তাঁদের সবাইকে গল্পের বাইরে বসিয়ে রাখলে চলবে কেন!

আমার উপন্যাসে সামাজিক বাস্তবতার মধ্যেই প্রেম আসে। সংসারের দায়িত্ব, সমাজের চাপ ও ব্যক্তিগত সংকটের মধ্যেও মানুষ ভালোবাসে। কারও জন্য অপেক্ষা করে, কারও আচরণে কষ্ট পায়। কখনো ভালোবাসা তাকে সাহস দেয়।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর